শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সবাইকে সতর্ক থাকার এবং অগ্নিনিরাপত্তাবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। সংস্থাটির মতে, অসাবধানতা ও অসচেতনতার কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাসাবাড়ি, কলকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং হোটেল-রেস্তোরাঁয় অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফায়ার সার্ভিসের পরামর্শগুলো হলো—
1. অগ্নিনিরাপত্তা আইন মেনে চলুন: ‘অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩’সহ এ-সংক্রান্ত অন্যান্য আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
2. ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: ভবন নির্মাণের সময় ফায়ার সেফটি প্ল্যান গ্রহণ করতে হবে এবং পরিকল্পনায় উল্লেখিত সব শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
3. রান্না শেষে গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করুন: রান্না শেষ হলে চুলা ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ রাখতে হবে। গ্যাসের চুলা নেভানোর জন্য ফুঁ দেওয়া যাবে না; চুলার নব ভালোভাবে বন্ধ করতে হবে।
4. ধূমপানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন: বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ সম্পূর্ণ নিভিয়ে নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে ফেলতে হবে, যাতে অসাবধানতাবশত আগুন ছড়িয়ে না পড়ে।
5. শিশুদের আগুন থেকে দূরে রাখুন: ছোট শিশুদের আগুন, দিয়াশলাই ও লাইটার নিয়ে খেলতে দেওয়া যাবে না।
6. দাহ্যবস্তুর কাছে আগুন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন: দাহ্যবস্তুর গুদামে খোলা বাতি ও মশার কয়েল ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্য স্থানেও এসব ব্যবহারের সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
7. রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করুন: গ্যাসের চুলা জ্বালানোর আগে রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলে দিতে হবে। রান্নাঘরে গ্যাস জমে থাকলে চুলা জ্বালানো অত্যন্ত বিপজ্জনক।
8. বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করুন: বৈদ্যুতিক তার, সুইচ, সংযোগ ও যন্ত্রপাতির অবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ তার ব্যবহার এবং অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক লোড এড়িয়ে চলতে হবে।
9. অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখুন: বাসাবাড়ি, কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি এসব যন্ত্রের ব্যবহার শিখতে হবে এবং নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা মহড়ার আয়োজন করতে হবে।
10. অগ্নিনিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ নিন: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মাধ্যমে অগ্নিপ্রতিরোধ, অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধারকাজ এবং প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
11. দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঘরে প্রবেশে সতর্ক থাকুন: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ফ্ল্যাট, বসতঘর বা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের পর দরজা-জানালা খুলে পর্যাপ্ত সময় বাতাস চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে বা গ্যাস জমে থাকার আশঙ্কা থাকলে বৈদ্যুতিক সুইচ চালু করা, আগুন জ্বালানো কিংবা দিয়াশলাই ব্যবহার করা যাবে না। এ অবস্থায় নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে জরুরি সহায়তা নিতে হবে।
12. জরুরি যোগাযোগের নম্বর সংরক্ষণ করুন: নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনের যোগাযোগ নম্বর সংগ্রহ করে রাখতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন ১০২ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে হবে।
13. হোটেল-রেস্তোরাঁয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: হোটেল ও রেস্তোরাঁয় গ্যাস সিলিন্ডার, গ্যাসের চুলা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে অগ্নিনিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মতে, অগ্নিদুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আগুন লাগার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।