• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির চাপে কমল স্বর্ণের দর, নজর ফেডের সুদের হার সিদ্ধান্তে লিবিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গোলাবারুদ বিস্ফোরণ, নিহত ৮ ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে উয়েফার ৪২ প্রশ্ন, ২ নভেম্বরের মধ্যে জবাব চায় ফিফার ইউরোপীয় সংস্থা লাল পেড়ে সাদা শাড়িতে পূজা চেরীর মুগ্ধতা, মহাষ্টমীর সাজে মুগ্ধ ভক্তরা শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, আবেদন করা যাবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও ইনডেক্স কর্তনের নির্দেশ

চীন-ভারত-দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বাড়ছে, এশিয়ার বাজারে নতুন সম্ভাবনা বাংলাদেশের

নিউজ ডেস্ক / ৩২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি এশিয়ার বড় বাজারগুলোতেও বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এশীয় বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেশের বাজার বহুমুখীকরণের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ২২ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২০ কোটি ৬১ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছিল ১২ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য। ভারতে রপ্তানি ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে ৫১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৮ কোটি ৩৭ লাখ ১০ হাজার ডলার।

এশিয়ার আরেক গুরুত্বপূর্ণ বাজার জাপানেও বাংলাদেশের রপ্তানি সামান্য বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে ৩৯ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩৯ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার ডলার।

এশিয়ার এসব বাজারে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। ইপিবির হিসাবে, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ডলার।

এশিয়ার বাজারগুলোতে রপ্তানি বৃদ্ধির এই প্রবণতা বাংলাদেশকে নতুন বাজার ও নতুন পণ্য সম্প্রসারণের সুযোগ করে দিচ্ছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং এশিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বাসসকে বলেন, এশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পণ্যভিত্তিক রপ্তানি সক্ষমতা, ক্রেতাদের চাহিদা এবং নতুন পণ্য ও বাজারের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল বাজার। দেশটিতে নতুন নতুন পণ্যের বাজার তৈরির সুযোগ রয়েছে। একইভাবে ভারতের সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য থাকায় আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বড় সুযোগ রয়েছে।

চীনের বাজারে পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর ইপিবি গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে হাসান আরিফ বলেন, দেশটির বিশাল ভোক্তা বাজার ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে।

ইপিবির সহযোগিতায় কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ১০ম চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো এবং ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি-রপ্তানি মেলা ২০২৬-এ অংশ নিয়েছে। এসব আয়োজনে অংশ নিয়ে রপ্তানিকারকেরা পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বাজারের পরিবর্তিত চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

ভারতের বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে হাসান আরিফ বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিশাল ভোক্তা বাজারের কারণে ভারত বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার। তবে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কাজ চলছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, জুতা, পাটজাত পণ্য, গৃহসজ্জার বস্ত্র, ওষুধ এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

জাপানের বাজারেও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, পাটজাত পণ্য, গৃহসজ্জার বস্ত্র, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ ও হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

হাসান আরিফ বলেন, এসব বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়াতে পণ্যের মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের চাহিদা অনুযায়ী মান ও বিধিবিধান মেনে চলা, সময়মতো পণ্য সরবরাহ এবং বাজারের চাহিদা সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা জরুরি।

রপ্তানি বাজার ও পণ্যের বহুমুখীকরণে ইপিবি বাণিজ্য মেলা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল, বাজার অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন প্রচারমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে রপ্তানিকারকদের সহায়তা করছে বলেও জানান তিনি।


More News Of This Category
bdit.com.bd