মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের স্বীকারোক্তি’ বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi। রোববার (৮ মার্চ) তিনি United Nations-এর মহাসচিব, নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি এবং সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
চিঠিতে আরাগচি বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি বহন করে। এর আগে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ ইরানকে সতর্ক করে বলেন, যেসব এলাকা বা জনগোষ্ঠী এখনো লক্ষ্যবস্তু হয়নি, সেগুলোকেও সম্পূর্ণ ধ্বংস ও নিশ্চিত মৃত্যুর আওতায় আনা হতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া হামলায় ৭ হাজার ৯৪৩টি আবাসিক ইউনিট, ১ হাজার ৬১৭টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ৩২টি চিকিৎসা কেন্দ্র, ৬৫টি স্কুল এবং ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ১৩টি ভবনসহ প্রায় ৯ হাজার ৬৬৯টি বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আরাগচি বলেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য কেবল হুমকি নয়, বরং ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত ধ্বংসযজ্ঞের দায় স্বীকারের শামিল। তিনি আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিরাপত্তা পরিষদ ব্যর্থ হলেও ইরান তার আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার বজায় রাখবে।
এছাড়া চলমান হামলায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি দায়বদ্ধতার মুখোমুখি হতে পারেন বলেও সতর্ক করেন ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক।
চিঠির শেষাংশে জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আরাগচি বলেন, যুদ্ধাপরাধ বন্ধ করা এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি রোধে যুক্তরাষ্ট্র ও তার প্রেসিডেন্টকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি।