সিঙ্গুরে আয়োজিত এক জনসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে অনুপ্রবেশকারীদের অবাধে প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে, যাতে তাদের ভবিষ্যতে ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি এবং তার প্রতি ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষ উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিঙ্গুরের এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ভূমি থেকে মোদি ঘোষণা দেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘এক জেলা এক পণ্য’ নীতি চালু করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিটি জেলার নিজস্ব বিশেষ পণ্যকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মৎস্যজীবী যোজনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প রাজ্যে আটকে রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মোদির ভাষায়, তৃণমূল সরকারের এই উদাসীনতা পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের ভবিষ্যতের সঙ্গে ‘খেলা করার শামিল’।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ‘মাফিয়া-রাজ’ ও ‘সিন্ডিকেট ট্যাক্স’ চালু রয়েছে, যার ফলে নতুন কোনো বিনিয়োগ আসা সম্ভব নয়। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই সিন্ডিকেট সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে নারী সুরক্ষা এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করার ‘গ্যারান্টি’ দেন তিনি।
মূলত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সিঙ্গুর থেকেই সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান জানান নরেন্দ্র মোদি।