ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া তার সামরিক সক্ষমতা জোরদার করতে অস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎপাদন বহুগুণে বাড়িয়েছে। যুদ্ধকালীন সময়ে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পখাতে উৎপাদন সর্বোচ্চ ২২ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) ক্রেমলিন–এ প্রতিরক্ষা শিল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে দেওয়া টেলিভিশন ভাষণে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
পুতিন জানান, সামরিক ট্যাংক উৎপাদন বেড়েছে ২ দশমিক ২ গুণ, সামরিক বিমান উৎপাদন ৪ দশমিক ৬ গুণ এবং আঘাত হানার সক্ষম অস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে ২২ গুণ।
রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে পুতিন বলেন, ‘বিশেষ সামরিক অভিযানে’ (এসএমও) অংশগ্রহণকারী সেনাদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করছে প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। যুদ্ধের ধরন ও কৌশল প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হওয়ায় সেই অনুযায়ী সামরিক উৎপাদন ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা রিয়া নোভোস্তি-কে উদ্ধৃত করে পুতিন জানান, ২০২২ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় সহায়তার ফলে প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন বিভিন্ন আধুনিক অস্ত্র উৎপাদনে বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাঁজোয়া যুদ্ধযান ও সাঁজোয়া জনবাহী যান (বিএমপি ও এপিসি) উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ গুণ, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ১২ দশমিক ৫ গুণ এবং রকেট আর্টিলারি অস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ৯ দশমিক ৬ গুণ। এসব অর্জন প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পুতিনের মতে, পুরো অর্থনীতির উন্নয়ন ও স্থিতিশীল আর্থিক অবস্থা না থাকলে এমন উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন সম্ভব হতো না। পাশাপাশি বিশেষ সামরিক অভিযানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের একটি নতুন কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অস্ত্র উৎপাদনের ব্যয় কমানো, অস্ত্র পরীক্ষাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ওপর জোর দেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, অস্ত্র খাতে মোট ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক ব্যয় করা হচ্ছে এমন উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ব্যবস্থায়, যা ভবিষ্যতের রুশ সশস্ত্র বাহিনীর রূপ নির্ধারণ করবে। এর মধ্যে কৌশলগত পারমাণবিক বাহিনী, মহাকাশ সম্পদ, আকাশ প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত।
এদিকে রিয়া নোভোস্তি জানায়, ২০২৭–২০৩৬ মেয়াদের জন্য রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র উৎপাদন কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট অস্ত্রের সংখ্যা নয়, বরং ভবিষ্যৎ যুদ্ধ সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি গত ১৭ ডিসেম্বর প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলাউসভ উপস্থাপন করেন।
সূত্র: এনডিটিভি