• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৬৮ বাংলাদেশি এসএসসির খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি করা পরীক্ষকদের শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী গুজরাট থেকে বাংলাদেশে আসছে ইলিশ, এবার উল্টো রপ্তানির অনুমতি চাইছে ভারত ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে রুমিন ফারহানার আবেদন নিজ কার্যালয় থেকেই চিকিৎসক-নার্সদের হাজিরা মনিটর করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেভরনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘুষের অভিযোগের তদন্তের পরই বদলি শিক্ষা কর্মকর্তা, উঠছে প্রশ্ন আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট থেকে ফের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ

প্রথম পারমাণবিক সাবমেরিনের ছবি প্রকাশ করল উত্তর কোরিয়া, পরিদর্শনে কিম জং উন

Reporter Name / ৪৫২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

প্রথম পারমাণবিকচালিত সাবমেরিন বলে দাবি করে একটি বিশাল সাবমেরিনের নতুন ছবি প্রকাশ করেছে উত্তর কোরিয়া। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর কয়েকটি অ্যাটাক সাবমেরিনের সমান আকারের এই জাহাজটি পরিদর্শন করছেন প্রেসিডেন্ট কিম জং উন।

ছবিগুলোতে দেখা যায়, গাইডেড-মিসাইল সাবমেরিনটি একটি ইনডোর নির্মাণকেন্দ্রে রাখা হয়েছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে এটি এখনও পানিতে নামানো হয়নি। পারমাণবিকচালিত সাবমেরিন নির্মাণ কিম জং উনের বহুদিনের লক্ষ্য, যা তিনি ২০২১ সালে ক্ষমতাসীন দলের কংগ্রেসে প্রথম প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনে দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব পারমাণবিকচালিত সাবমেরিন নির্মাণের উদ্যোগ পিয়ংইয়ংকে এই প্রকল্পে নতুন করে গতি দিয়েছে।

পারমাণবিকচালিত সাবমেরিনের বড় সুবিধা হলো—যথেষ্ট রসদ থাকলে এগুলো বছরের পর বছর পানির নিচে থাকতে পারে। যেখানে ডিজেলচালিত প্রচলিত সাবমেরিনকে ব্যাটারি চার্জ ও ইঞ্জিন চালাতে নিয়মিত ভেসে উঠতে হয়। এ ছাড়া এসব সাবমেরিন তুলনামূলকভাবে দ্রুতগতির এবং অনেক ক্ষেত্রে আরও নীরব। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও ভারত এই প্রযুক্তির অধিকারী।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সর্বশেষ ছবিতে সাবমেরিনটির নির্মাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। চলতি বছরের মার্চে প্রথম এর অস্তিত্বের কথা জানানো হয়। কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, সাবমেরিনটির ডিসপ্লেসমেন্ট প্রায় ৮ হাজার ৭০০ টন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া শ্রেণির অধিকাংশ পারমাণবিকচালিত অ্যাটাক সাবমেরিনের কাছাকাছি।

কেসিএনএর প্রতিবেদনে কিম জং উনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, “পিয়ংইয়ংয়ের প্রতিরক্ষা নীতি সর্বশক্তিশালী আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে। আমরা সুপার-শক্তিশালী আক্রমণাত্মক শক্তিকেই জাতীয় নিরাপত্তার সর্বোত্তম ঢাল হিসেবে দেখি।”

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিকচালিত সাবমেরিন নির্মাণকে উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন কিম এবং একে মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

তবে সিউলের ইহওয়া উইমেন্স ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক লেইফ-এরিক ইজলি মনে করেন, কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনার জন্য মূলত পিয়ংইয়ং নিজেই দায়ী। তিনি বলেন, “পারমাণবিকচালিত সাবমেরিনের সংখ্যা বাড়লে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। এ বিষয়ে কিম হয়তো ঠিক, কিন্তু এই অস্ত্র প্রতিযোগিতার দায় তাকেই নিতে হবে।”

২০২১ সালে ঘোষিত পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কিম জং উন দেশের সামরিক শক্তি জোরদারে নজরদারি করছেন। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, প্রতিরক্ষা এড়াতে সক্ষম হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল এবং নৌবাহিনীর জন্য দুটি নতুন গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার নির্মাণ।

চলতি বছর দ্বিতীয় ডেস্ট্রয়ার উদ্বোধনের সময় উল্টে যাওয়ার ঘটনায় আলোচনায় আসে। পরে সেটিকে আবার ভাসানো হয় এবং মেরামত সম্পন্ন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন সাবমেরিন পরিদর্শনের সময় কিম বলেন, “ডেস্ট্রয়ার ও পারমাণবিক সাবমেরিন নির্মাণ আমাদের নৌবহরের যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধিতে এক বিশাল অগ্রগতি।”


More News Of This Category
bdit.com.bd