দীর্ঘ ১৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে খুলনায় চালু হচ্ছে আধুনিক নতুন জেলা কারাগার। তবে আপাতত অর্ধেক সক্ষমতা নিয়েই শুরু হচ্ছে এর কার্যক্রম। জনবল সংকট থাকায় প্রথম ধাপে সাজাপ্রাপ্ত ১০০ বন্দিকে পুরোনো কারাগার থেকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে নতুন কারাগারে বন্দিদের স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে। খুলনা জেলার মুনীর হোসাইন জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়তলা পুরুষ হাজতি ব্যারাক, নারী ও কিশোরী বন্দিদের ব্যারাক চালু থাকবে। এছাড়া ৭০ জন কারারক্ষী এবং আরও ২০ জনকে নতুনভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০১১ সালে ‘খুলনা জেলা কারাগার নির্মাণ’ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ২০১৬ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময় বাড়ানো হয় ৮ বার। দুই দফা সংশোধনের পর প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়ায় ২৮৮ কোটি টাকা। খুলনার রূপসা সেতু বাইপাস সড়কের পাশে প্রায় ৩০ একর জমির ওপর নির্মিত এই নতুন কারাগারে মোট ৪ হাজার বন্দি রাখার পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে ২ হাজার বন্দির জন্য অবকাঠামো প্রস্তুত।
কারাগারটি ঘুরে দেখা গেছে, আধুনিক নকশায় নির্মিত বিশাল স্থাপনাগুলো যেন এক আবাসিক এলাকার মতো। রয়েছে প্রশাসনিক ভবন, প্রশস্ত মসজিদ, পাকা রাস্তা, ওয়াচ টাওয়ার, পারিবারিক কোয়ার্টার ও স্কুল ভবন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্মিত হয়েছে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রাচীর।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, মোট ৫৭টি স্থাপনা নির্মিত হয়েছে, যার মধ্যে বন্দিদের থাকার ভবন ১১টি। সব স্থাপনাই কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে।
খুলনা জেল সুপার নাসির উদ্দিন প্রধান বলেন, নতুন ও পুরনো কারাগার একসঙ্গে চালাতে মোট ৬০০ জন জনবল প্রয়োজন হলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ২০৮ জন। সম্প্রতি আরও ৪৪ জন পদায়ন হয়েছে। আপাতত এই জনবল দিয়েই দুটি কারাগার পরিচালনা করতে হবে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুরনো কারাগারে রাখা হবে মহানগর এলাকার বন্দিদের, আর নতুন কারাগারে জেলার ৯ উপজেলার বন্দিদের। নতুন কারাগারটি ধীরে ধীরে জেলার কেন্দ্রীয় কারাগার হিসেবে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।