
বৈদ্যুতিক ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রদান কার্যক্রমকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে অনলাইন আবেদন গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে সরকারের বিদ্যুৎ লাইসেন্সিং বোর্ড। এ লক্ষ্যে ১৬তম ব্যাচের বৈদ্যুতিক ঠিকাদারি লাইসেন্সের জন্য আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে।
সম্প্রতি প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের কার্যালয়ের অধীন বিদ্যুৎ লাইসেন্সিং বোর্ড প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক ঠিকাদারি লাইসেন্স পেতে আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শুধুমাত্র অনলাইনে আবেদন করতে হবে। কোনো ধরনের ম্যানুয়াল বা সরাসরি আবেদন গ্রহণ করা হবে না। আবেদন প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরের মাধ্যমে হয়রানি কমানো এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আবেদনকারীদের প্রথমে অনলাইন পোর্টালে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) সম্পন্ন করতে হবে। নিবন্ধনের সময় মোবাইল নম্বরে পাঠানো ওটিপি (OTP) যাচাইয়ের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করা হবে। এরপর ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।
লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হবে সেগুলো হলো—
আবেদনকারীদের ছবি, স্বাক্ষর এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। আবেদনপত্রে দেওয়া সব তথ্য সঠিক বলে ঘোষণা দিয়ে তা সংরক্ষণ ও জমা দিতে হবে।
লাইসেন্স ফি বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক অথবা ই-চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। ফি জমা দেওয়ার পর ট্রেজারি চালানের তথ্য ও স্ক্যান কপি অনলাইনে সংযুক্ত করতে হবে। এছাড়া সেন্টার ফি মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতিতে পরিশোধ করা যাবে।
বিদ্যুৎ লাইসেন্সিং বোর্ড আবেদনকারীদের সতর্ক করে জানিয়েছে, ‘ফাইনাল সাবমিট’ করার আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। কারণ একবার আবেদন চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়া হলে পরবর্তীতে কোনো তথ্য সংশোধনের সুযোগ থাকবে না।
সফলভাবে আবেদন সম্পন্ন হলে আবেদনকারীরা ড্যাশবোর্ডে আবেদনের অগ্রগতি দেখতে পারবেন এবং এসএমএসের মাধ্যমেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাবেন।
এছাড়া সাক্ষাৎকার বা পরীক্ষার সময় ট্রেড লাইসেন্স, বিআইএন ও টিআইএন সনদ, সুপারভাইজার লাইসেন্স, ট্রেজারি চালানের মূল কপি এবং পরীক্ষণ যন্ত্রপাতি ক্রয়ের রসিদসহ সব মূল কাগজপত্র প্রদর্শন করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনলাইনভিত্তিক এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে। একই সঙ্গে দেশের যেকোনো স্থান থেকে সহজেই আবেদন করার সুযোগ পাবেন সেবাগ্রহীতারা।