ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ আশা প্রকাশ করেছেন যে বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক হবে। তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অর্থ হলো জনগণের ভোট দেওয়ার পূর্ণ সুযোগ নিশ্চিত করা, কাউকে বঞ্চিত না করা এবং নারী-পুরুষসহ সব ভোটারের মুক্তভাবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিযোগিতা ও অংশগ্রহণও এর গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিক্যাব আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়া জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলো যেন সহিংসতা থেকে দূরে থাকে এবং শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালাতে পারে। ভোটাররা ভয়মুক্ত পরিবেশে মত প্রকাশ করতে পারবেন এবং বিদেশে থাকা ভোটারদের অংশগ্রহণ ও সঠিক ভোটগণনাও নিশ্চিত করতে হবে—এটাই নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্যাকেজ। তিনি আরও বলেন, উচ্চ ভোটদানের হার নির্বাচনকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করবে। সাধারণত বিশ্বব্যাপী ভোটদানের হার ৫০–৮০ শতাংশের মধ্যে থাকে; ৫০–৬০ শতাংশ ভোটদানও ইতিবাচক সংকেত। তিনি আশা করেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশবাসীকে একটি আনন্দময় নির্বাচন উপহার দেবে। শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিচার হওয়া প্রয়োজন হলেও জার্মানি কোনোভাবেই ফাঁসির দণ্ড সমর্থন করে না। নির্বাচন শেষে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ বা রিকনসিলিয়েশন চলবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। বিনিয়োগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত এবং নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সম্পর্কের সুযোগ তৈরি হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটি সেক্টর, আইনের শাসন, শ্রম পরিবেশ ও প্রশাসনিক কাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করছে, যেখানে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, দুর্নীতি হ্রাস এবং দক্ষ শাসনের ইচ্ছা দৃশ্যমান।