
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত বছর ৫ আগস্ট দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে গেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত ডামি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে ভারতে অবস্থানরত এই দুই দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তির বরাতে সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিবিসি জানিয়েছে, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আজকের রায়ে পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল জুলাই হত্যাকাণ্ডের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের যদি দ্বিতীয় কোনো দেশ আশ্রয় দেয়, তা হবে ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞা এবং অববন্ধুসুলভ আচরণ।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ভারত সরকারের প্রতি অনতিবিলম্বে দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই ব্যক্তিকে হস্তান্তরের আহ্বান জানাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, এটি ভারতের জন্য অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব।
এর আগে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কয়েক দফা আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছিল শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এখনও কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে তাদের ফেরত চেয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাংলাদেশের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ন্যায়বিচারের মুখোমুখি করা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাদের শাস্তি কার্যকর করা।